৫ বছরে ফেসবুক-গুগল-কে ৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে ৩ অপারেটর
গত পাঁচ বছরে গুগল ও ফেসবুককে প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা দিয়েছে তিন মোবাইল ফোন অপারেটর- গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবি। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের উপপরিচালক প্রকৌশলী মো. নাহিদুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চে বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়।
আদালতে বিটিআরসি’র পক্ষে আইনজীবী একেএম আলমগীর পারভেজের দাখিল করা প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত পাঁচ বছরে তিন মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবি মোট আট হাজার ৭৪৪ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে গুগল ও ফেসবুককে।
জানাগেছে, একই বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যে প্রতিবেদন দাখিল করে তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে এনবিআরকে পুনরায় প্রতিবেদন দাখিলে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ইন্টারনেটভিত্তিক সব ধরনের প্রতিষ্ঠান থেকে রাজস্ব আদায়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাও এনবিআরকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এর আগে ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল সার্চ ইঞ্জিন গুগল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ ইন্টারনেটভিত্তিক সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব ফাঁকির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। বিশেষজ্ঞ ওই তদন্ত কমিটি গঠনে অর্থ মন্ত্রণালয় সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনবিআর চেয়ারম্যান, আইন মন্ত্রণালয় সচিব, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সচিব, বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।
এছাড়া ইন্টারনেট মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন, ডোমেইন বিক্রি এবং বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্স বিক্রির ফি সহ যেকোনও লেনদেনের বিপরীতে পরিশোধকৃত টাকার ওপর আদায়যোগ্য রাজস্ব সংগ্রহ করতে বলা হয়। একইসঙ্গে ইন্টারনেটভিত্তিক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় রাজস্ব আদায়ে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সার্চ ইঞ্জিন গুগল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ ইন্টারনেটভিত্তিক সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব ফাঁকির বিরুদ্ধে রিট দায়ের করেন ৬ আইনজীবী। এরা হলেন- ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউসার, অ্যাডভোকেট আবু জাফর মো. সালেহ, অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার বিশ্বাস, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মাজেদুল কাদের।
রিট আবেদনে ইন্টারনেটভিত্তিক সব প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনা, প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে পরিচালনার জন্য নীতিমালা প্রস্তুত করা, প্রতিষ্ঠানগুলো কী পরিমাণ টাকা নিচ্ছে তার জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং সেই কমিটি দিয়ে বিগত ১০ বছরে কী পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে তা নিরূপণের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
রিটে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক এবং বাংলাদেশ নিউজ পেপারস ওনারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিউর রহমানসহ, গুগল, ফেসবুক, ইয়াহু এবং ইউটিউব কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়।